দুইদিনে সূচক বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশের বেশি

দেশের পুঁজিবাজারে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গত রোববার বড় দরপতন হয়েছিল।

তবে এরপর টানা দুই কার্যদিবস গত সোম ও মঙ্গলবার সূচকে উত্থান দেখা গেছে। এ দুইদিনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত রোববার ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৯ পয়েন্টে। এর পরদিন সূচকটি ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৪১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল সূচকটি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ গত রোববার ছিল ১ হাজার ৯২০ পয়েন্ট। পরদিন সূচকটি ২ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল সূচকটি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত রোববার ছিল ১ হাজার ১৩ পয়েন্টে। পরদিন সূচকটি ২ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫ পয়েন্টে। আর গতকাল সূচকটি ২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এ দুইদিন সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৫৯৩ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪১৬ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ৪২ দশমিক ৭১ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩৯টির, কমেছে ১৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েকদিন টানা দরপতনের পর শেয়ারের দাম তুলনামূলক আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে আসায় সতর্ক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে পুঁজিবাজার আংশিক ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেখা গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কম ছিল।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৬ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে। এছাড়া পাট খাতে ৩ দশমিক ৮, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩ দশমিক ৩, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ৯ এবং জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২০৬ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩৩২ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৭৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ৩২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। গতকাল সিএসইতে ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

আরও